Header Ads

Header ADS

অবলা কথন || কবিতা || মিন্টু ভদ্র

আমি এখন অনেক ভালো, তোমায় ভালোবাসি না
আগের মত কথায় কথায়, বদন ভরে হাসি না।
দুচোখ বুজে কলেজে যায়, দুচোখ বুজে ফিরি;
আমি এখন খুব সকালে এমনিতেই স্নান করি।
কোচিংএ যায় বেলা হলেই, মা সাথে যান রোজই।
ইচ্ছেগুলো সামলে রাখি, আর ধরিনা বাজি।
এদিক ওদিক তাঁকায় না আর, হিসেব করে চলি;
যে কথাটা বলারমত সেটাই কেবল বলি।
আগেরমত ক্ষণে ক্ষণে তোমার কথা ভাবিনা,
সময় পেলেও সকল বলার, কথার স্রোতে ভাসিনা।

ওড়না দিয়ে বুক পেচিয়েও রক্ষা হয়নি শেষ
দেহের প্রতিঅঙ্গের সাথেই সমান দোষী কেশ।
চোখের কাজল দোষ করেছে, দোষ করেছে পা,
দোষ করেছে দেহের পেছন, দোষ করেছে গা।
দোষ করেছে হাতের আঙ্গুল, দোষ করেছে ঠোঁট
আমি হলাম পূর্ণ দোষী, দোষের মহাজোট।

তোমরা যারা পুরুষ মানুষ, ঘেন্না লাগে ভেবে!
ওত পেতে রও অন্ধকারে, কখন সুযোগ নেবে।
সবুজ দেখে মেসেজ ঢোকাও, সময় বুঝে ফোন;
জাল ফেলে দাও সকাল-বিকাল ধরতে নারীগণ।
অগ্রাধিকার কে বা না চায়! কে-ই বা না চায় প্রেম!
কোমলতার সুযোগ নিয়ে বানাও বোকা, শে'ম! শে'ম!
একলা পেলেই রুপ চেনা যায়, আসল নকল খাঁটি।
পুরুষ মানেই সর্বনাশা, পুরুষ মানেই নটী।
অন্যকারো দোষ দেব না, দোষ তো আমার নিজের
সেদিন আমার পাজামাটার দোষ দিয়েছে ফিতের।
সেদিন থেকে আগের মত আমার আমি আর নেই
এপৃথিবী পাল্টে গেছে, ভয়াল সন্ধ্যে বেলাতেই।
আমি এখন পবিত্র নই, অনূড়া নই আর
আমার সকল নষ্ট ভীষণ, নষ্ট সমাচার।
ভালোবাসার মানুষ আমার, তুমিও নিলে ছুটি!
আমি এখন একলা চলি, একলা মোটামুটি।
একলা চলার নেই অধিকার, একলা থাকাও চলে না
মানুষ নিয়ে চলতে গেলেও, পুরুষগুলো ছাড়ে না।

মোড়ের পরের দোকানগুলোও আমার গল্প করে
আমার দোষই বেশি ছিলো, উচিত কথা পাড়ে।
সেদিন রাতে একলা বাসে আমিই ছিলাম নারী;
পুরুষগুলো শিক্ষা দিলো, শিক্ষে পেলাম ভারি।
বেঁচে আছি এইতো অনেক, আর কী বলো চাই!
মনের জোরে এগিয়ে চলি, দাড়িয়ে থাকি পায়।
আমার কাছে আমি শ্রেষ্ঠ, শ্রেষ্ঠ আমার মা
এই পৃথিবী আমার, আমি কাউকে পরোয়া করি না।

অবলা কথন || কবিতা || মিন্টু ভদ্র
মার্চ, ২০১৮

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.