সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

বৃষ্টিস্নান

বৃষ্টি এলেই বালিকা তোর বৃষ্টি স্নানের খেলা
খোপা করা চুল ছেড়ে দিস শাওন দুপুর বেলা।
অচেনা এক মুদ্রাতে তুই নেচে উঠিস বৃষ্টি তালে
খুব মনোযোগ হেসে উঠিস টোল ফেলানো গালে।
পাতার উপর বৃষ্টি নামে, ফুলের উপর জল
বর্ষা নামে এ পাড়াতে, তোর মনে টলমল।

আনন্দের এ বৃষ্টিস্নানে আমার যাওয়া মানা
দূর হতে তাই দাড়িয়ে দেখি, শ্যামল বরনা।
বাদলা ফোঁটায় জমে উঠে মনের চারিকোণ
তুই বালিকা সামনে এলেই আমি গহীন বন।


বৃষ্টিস্নান ||
২৪/০৭/২০১৭
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

কবিতার দেবী ॥ কথাকাব্য

ওগো কবিতার দেবী,
তোমার আকাশে আজ শুক্লা দ্বাদশীর চাঁদ, অগণিত সভ্যতার স্বাক্ষী দিগন্তের নক্ষত্র, গগনতল জুড়ে মায়াময় প্রশান্তি আর ছায়াময় বিস্ময়। শনশন বায়ু, তুলো মেঘ শ্রাবণের বুকে। অনেক কাল এমনি পূরবের ছাপোষা সূর্য তোমার কৃপায় পরিবর্তন আনে, পরিবর্ধন করে কাঠামোর। মানুষের জয় হয়, সূর্যের আগুনে পুড়ে একটি সূর্য সেন জন্মায় স্মরণ কালের সৌর ঝড়ে।
যত গান, যত সুর বোধেরও ঊর্ধ্বে, যত প্রবহমানতা নদীর মত কলকল জলতলে, পাহাড়ে, কিম্বা অন্য সূর্যমন্ডলে; তোমার উদয়ে আসে পরিপূর্ণতা, প্রশান্তি। সমস্ত প্রকাশের, বিকাশের উদ্ধরণ। শব্দেরা খেলা করে, খেলার মাঠজোড়া শব্দের মেলা বৃত্তাকার, বর্গাকার, ত্রিভুজাকার, হাজারে হাজারে রকম-সকম, আকার নিরাকার, নির্জীব, সজীব শব্দ। তুমি শব্দ খেলার মাঠের মধ্যমণি পুরোহিত, ক্ষুদ্র কবির এ শব্দাঞ্জলি গ্রহণ কর।
হে দেবী তুমি প্রসন্ন হও! প্রসন্ন হও! তোমার জয় হোক! তোমার জয় হোক!


কবিতার দেবী ॥
২১/০৭/২০১৭

তুই-তুকারি প্রেম || কবিতা

তোর মত ঠিক পাগলী যদি
আমার হত চিরটাকাল
তোর মত ওই পাগলামিটা
করতো আমায় বড্ড বেহাল!
তোর চোয়ালের একটি তিলে
মরছি আমি তিলে তিলে
সকাল বিকাল খালে বিলে
ভাসছি ডুবছি সুকৌশলে।
তোর কালো ওই ভ্রমর চোখে
কী ভুল করলি কাজল মেখে
সর্বনাশের সর্বলোকে
বিঁধলোরে তীর আমার বুকে।
ও রুপ দেখে লুকায় শশী
সূর্য জ্বরে বারোমাসি;
ও মাধবী বঙ্গকেশী
তোরে বড্ড ভালোবাসি।


তুই-তুকারি প্রেম ||
১৭/০৭/২০১৭

আমার ভূতের বউ || অনুগল্প

"আরে বউ কই গেলি? দেখ, হাটেত্তে কি কিনে নিয়াইছি!"
বতরের ধান উঠারপর তাঁরে একটা নাকফুল কিনে দেওয়ার কথাছিলো। আজকে সেটা তারে না জানিয়েই নিয়ে এসেছি।
বউ দৌড়ে আসে ঘর থেকে। বাজারের ব্যাগ ধরে ভেতরে দেখার চেষ্টা করে। এক পলক দেখেই, টান মেরে ফেলে দেয় ওঠানে। তাঁরপর গজরাতে থাকে, চোখমুখ কেমন করে তাকায় আমার দিকে। বউকে ধরে শুইয়ে দিই খোলা বারান্দার চকিতে।
আজ নতুন না, এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। লোকে বলে, “ওরে বিমল তোর বৌডারে ভূতে ধরেছে”। ভূতে ধরা বিষয়ে ট্রিটমেন্ট দিয়েছি ফকির-ফাকরা দিয়ে, ঝাটা পড়া, জল পড়া সব দাওয়াই দেয়া হয়েছে। ডাক্তার দেখিয়েও কোন লাভ হয়নি। আস্তে আস্তে মনে হতে লাগলো আমার জীবনটা মনে হয় শেষ হয়ে গেলো, আমাদের সংসার ধবংস হয়ে গেলো। খারাপ লাগত খুব। মা প্রায়ই বলে, “বৌডারে বাবার বাড়ি থুয়ে আয়”।
সিদ্ধান্ত নিলাম বউরে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেবো। শিউলি যদিও কিছুই জানে না এ কঠিন সিদ্ধান্তের ব্যপারে (আমার বউয়ের নাম শিউলি রাজবংশী)। কয়েকদিন ট্রাই করেও তাঁকে ব্যপারটি খুলে বলতে পারলাম না। যদিও সব সময় যে ভূত থাকে তাতো না, মাঝে মাঝে দুই-একদিন কিছু সময়ের জন্য আসে আবার চলেও যায়। ভূত ঘাড়ে থাকলেই র…

নতুন মিশন || ছড়া কাব্য

বান্দরবনে
ফরেস্ট আছে
শুনে ছিলাম
কারো কাছে।

মন আশে তাই
বনবাসে
বহুত দূরের
পরবাসে।

সঙ্গে যাবার
কেউ কি আছো
আমায় ভীষণ
ভালোবাসো!

দিচ্ছি কথা
রাখবো ভালো
অন্ধকারে
জ্বালবো আলো।

রক্ষা করবো
পশু হতে
সহায় হব
এ জগতে।

জংলি ভালো
জঙ্গির চেয়ে
সেই ভরসা
যাচ্ছি দিয়ে।

নজরুল গীতি
রবির গানে
জাগবে সকাল
মনে প্রাণে।

মানব প্রেমিক
ভয়ে ভীত
সাম্প্রদায়িক
বিষের ক্ষত।

শ্যামল কান্তি
থাবা বাবা
বড্ড বেশি
হাবাগোবা।

আমি বরং
বেশ বুদ্ধিমান
মানুষ ছেড়ে
খুঁজতেছি বন।

মানুষ খেকো
পশুগুলো,
মানুষের চে'
বরং ভালো।

স্বভাব ছেড়ে
অভাব গ্রস্থ,
মিথ্যে মাপা
দৈর্ঘ্য, প্রস্থ।

সৃষ্টি সেরা
মানব জাতি,
কে কইয়েছে
পারেন কতি!

মানুষগুলো
সবচে খারাপ
চালাতে চাই
মুক্ত আলাপ।

আমি বরং
বনবাসে
হাসবো খেলবো
অবশেষে।

মানুষ থেকে
অনেক দূরে
মিছে পুথির
পাতা ছিড়ে।

নির্মাণে নয়
বিনির্মাণে
এবার মিশন
বনে বনে।

নতুন মিশন ||
২৫/০৫/২০১৭

শ্যাম কালাচান মান করেছে || গীতি কবিতা

শ্যাম কালাচান মান করেছে শ্যাম কালাচান মান করেছে কি করি সই বলরে তোরা আকাশ মেঘে বেজার মুখো বুঝি নামে আকুল ধারা।। গোধূলিতে চাইনিরে শ্যাম আমার পানে একটি বারও বাজাই না ক্যান পোড়া বাঁশি বাজে না ক্যান চেনা সুরও শ্যামরে আমার বুঝিয়ে বল ঘাটে যেন আসে তরা।। তাহার লাগি সব করিব কৃষ্ণ কথা সব মানিব একটি বারের জন্য কালা এসো দুলি প্রেমের দোলা আবার যদি না আসে শ্যাম মরিবে রাই কথা দিলাম এ জ্বালা যে সহেনা সই কানু বিনে কামনে রই সব সঁপেছি তাহার পায়ে হয়না কিছু আমার দ্বারা শ্যামরে আমার বুঝিয়ে বল ঘাটে যেন আসে তরা।।

ভালোবাসার প্রতিদান || কবিতা

ভালোবাসার প্রতিদান আর কত অবলকিবো দেবালয় ভাঙ্গার সংবাদ গৃহের ভগবানের বক্ষ চৌচির মস্তক বিহীন বিগ্রহ!(?) প্রতিদিন, প্রতিঘণ্টায়, প্রতিক্ষণে শুনতে পাই শুধু ভাঙ্গার শব্দ, হৃদয় ক্ষত করা চিৎকার। আর্তনাদে আর্তনাদে আমার প্রিয় এই দেশ কোন কঠিন ইমারত গড়তে যাচ্ছে কে জানে ? যারা ভালবাসেনি তাঁরা বেঁচে গেছে কোনক্রমে রাক্ষুসীর প্রেমে যারা হাবুডুবু খাচ্ছে এখনো ; প্রতিক্ষণ যাদের আহাকার , হারাবার মহাযজ্ঞ। ভালোবাসার প্রতিদান শূন্য বুক, শূন্য মন্দির।